Mahbubur R's Blog
Bangladesh is a nice village country. Visit Bagladesh
Bangladesh
photo
জোট সরকারের ষড়যন্ত্রে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলা হিমাগারে, গায়েব করে ফেলা হয়েছে নথিপত্র
জয়ন্ত আচার্য

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর (ইএনএস) - জোট সরকারের ষড়যন্ত্রে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলা হিমাগারে চলে গেছে। গায়েব করে ফেলা হয়েছে এর নথিপত্র। স্বাধীনতার ৩৫ বছরেও স্বাধীনতা বিরোধী জামাত ও তাদের সহযোগী আলবদর, আল-শামস বাহিনী বিচার হয়নি। প্রতিবছরের ন্যায় বছরও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের দাবী উঠেছে।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক দু’দিন আগে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত ও তাদের সহযোগী আলবদর, আল-শামস বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের। স্বাধীনতা অর্জনের পরই বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্তের দাবি করা হয়েছিল। কিন' যারা এই হত্যাকা- ঘটিয়েছিল তাদের বিচার করা আজও সম্ভব হয়নি। বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- সম্পর্কিত মামলার নথিপত্রও গায়েব করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে শহীদ আধ্যাপক গিয়াসউদ্দীন বোন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তখন মামলাটির তদন্তে দ্রুত আগ্রসর হলেও জোট সরকারের পাঁচ বছরে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলাটি চলে যায় হিমাগারে। ৭১ সালের এপ্রিলে জামায়াতের তৎকালীন মজলিশে শুরার সদস্য মওলানা এ কে এম ইউসুফ খুলনায় রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলে ধ্বংসযজ্ঞে লেলিয়ে দেয়। জানা যায়, ২২ এপ্রিল জামালপুরে পাক বাহিনীর পৌঁছার পর ময়মনসিংহ জেলা ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী গঠন করে সশস্ত্র ট্রেনিংয়ের ব্যবস'া করা হয়। আলবদর বাহিনীর হেড-কোয়ার্টার ছিল ঢাকার মোহাম্মদপুরে। এখানে রাজাকারদের ফিজিক্যাল ট্রেনিং দেওয়া হতো। নভেম্বরেই এ বাহিনীকে বুদ্ধিজীবী হত্যার কাজে নিযুক্ত করা হয়।তবে ’৭১ সালে পুরো পাকিস্তানের আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন বর্তমান শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর মতিউর রহমান নিজামী। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান ঘাতক ছিলেন আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মঈনুদ্দিন। ’৭১ সালে আশরাফুজ্জামান ছিলেন ইসলামী ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ১৬ ডিসেম্বরের পর আশরাফুজ্জামানের নাখালপাড়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা তার দুই পৃষ্ঠার ব্যক্তিগত ডায়রিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ জন বিশিষ্ট শিৰক-শিৰিকা ও চিকিৎসকের নাম ছিল। এদের মধ্যে ৮ জন ১৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। স্বাধীনতার পরই আশরাফুজ্জামান পাকিস্তানে চলে যান। এখন তিনি নিউইয়র্কে আছেন।
চৌধুরী মঈনুদ্দিন ছিলেন তৎকালীন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা। ঢাকার মতিঝিলে অবজারভার ভবন থেকে তিনি বুদ্ধিজীবীদের নাম ঠিকানা হত্যার নায়ক জেনারেল ফরমান আলী এবং বিগ্রেডিয়ার বশীর আহমেদকে পৌঁছে দিতেন। চৌধুরী মঈনুদ্দিন এখন লন্ডনে। ’৭১এর সেপ্টেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের নীলনকশা নিয়ে জেনারেল রাও ফরমানের সঙ্গে অসংখ্যবার বৈঠক করেছে বলে জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বির্বদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর গঠিত বুদ্ধিজীবী হত্যা রহস্য তথ্যানুসন্ধান কমিটি থেকে জানা যায়, দেশের ২০ হাজার শিৰিত শ্রেণীর লোককে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।
স্বাধীনতা পরই বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্তের দাবি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর কয়েকজন তর্বণ মিলে গঠন করে বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিশন। জহির রায়হান ছিলে এর আহ্বায়ক এবং আবুল বাশারাত ছিলেন এর মহাসচিব। সদস্য ছিলেন আলী আশরাফ ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম। কমিশনের কাজ ছিল বুদ্ধিজীবী পরিবারগুলোর সাৰ্য নেয়া, ঘাতক আলবদর, আল-শামসদের চিহ্নিত করা এবং আলবদরের ক্যাম্প খুঁজে বের করা। তবে ১০ জানুয়ারি জহির রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর এই তদন্তের কাজ বেশিদূর এগোতে পারেনি
2006-12-19 10:41:53 GMT
Hosted by www.Geocities.ws

1